আলফাডাঙ্গা উপজেলা উপজেলা
আয়তন: ১৩৬ বর্গকিলোমিটার
আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিচিতি
বঙ্গদেশে লুই বারো নামে একজন ফরাসী প্রথম আধুনিক পদ্ধতিতে নীল উৎপাদন শুরু করেন। ইংরেজদের মধ্যে কারোল ব্ল ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে কোম্পানীর সরকার কর্তৃক সাধারণভাবে প্রত্যেক ইউরোপীয়কেই বঙ্গ ও বিহারে নীল চাষের অধিকার দেয়া হয়। বঙ্গের নীলচাষের সূত্র পাতের সঙ্গে সঙ্গে নীল চাষীদের উপর নীলকরদের উপর নীল করদের অত্যাচার শুর হয়।
১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে ইউরোপীয়রা বঙ্গদেশের জমি কিনে জমিদার রুপে বসবাস করার অধিকার অর্জন করে। ফরিদপুরের গড়াই, মধুমতি বারাসিয়া, চন্দনা ও কুমার প্রভৃতি নদ নদীর তীরবর্তী জমিতে নীলচাষ শুরু হয়। ইংরেজ নীলকুঠি সাহেব ও অনেক স্থানীয় জমিদার জেলার নানা স্থানে উৎসাহের সাথে বহু নীলকুঠি স্থাপন করেন। এসব নীলকররা ছিলেন কান্ডজ্ঞানহীন এবং অত্যাচারী
১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে নীল কুঠিয়ালদের অত্যাচার চরমে পৌছে। নীলকরদের মধ্যে স্যার জেমস ওয়ারলিপ নামক এক ব্যক্তি ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গার মীরগঞ্জ গ্রামের নীলকুঠি স্থাপন করেন। এজেলার ৫২ টি নীলকুঠি এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রধান ম্যানেজার ছিলেন ডানলফ সাহেব। তিনি ১৮১২ থেকে ১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন। এখানে তিনি ছিলেন অত্যাচারী মানবতা বোধহীন ব্যক্তি।
১৮৫৯ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে নীলচাষীরা ইংরেজ লাঠিয়াল নীলকর জমিদারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ফরিদপুরের বহু স্থানে নীলকুঠি আক্রমন করা হয়। আলফাডাঙ্গা উপজেলার পার্শ্ববর্তী কাশিয়ানি উপজেলার পাথরঘাটায় মহিমচন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে লোহাগড়ার মকিমপুরের নীলকুঠিতে নীলচাষীরা আক্রমন করে। এ দাঙ্গায় তিনজন নীলচাষী গুলিবৃদ্ধ হয়ে নিহত হন। মহিমচন্দ্র ও তার সঙ্গীদের কারাদন্ড হয়। নীলচাষীদের সংঘবদ্ধ প্রতিরোধের কারণে সরকার শেষ পর্যন্ত নীল কমিশন করতে বাধ্য হয়।
আলফাডাঙ্গা উপজেলার উত্তর পূর্বে বোয়ালমারী উপজেলা, দক্ষিনে কাশিয়ানী উপজেলা, পশ্চিমে মোহাম্মদপুর ও লোহাগাড়া উপজেলা।